অরিত্র সান্যাল
যে বৃষ্টি হয়ে গেলো
তারপর আকাশের ধৈর্য্যে লেগেছে চাঁদ।
আজ সারাদিন অন্য কারুর কথা বলা যাক।
এই তো দিনের তুমুল,
খুব পূর্ণিমানবী রাত,
এখনই সন্ধ্যে হলো কৃষ্ণচূড়া।
সারাদিন তারই তো কথা এতসব!
কথায় কথায় সে লুটিয়ে তো পড়বেই!
তার আঁচল দির্ঘীকার...
সারাদিন- দিনের যোগ্যতর সামান্য বৃষ্টির পরে
এক লুটোনোর শুরু...
তোমার আব্রুটুকু বৃষ্টি পেয়েছে আজ খুব ভোর থেকে।
আমাদের বিভিন্ন কাজ সারাদিন। এই অঝোরের মাঝখানে
যেতে হবে এখানে ওখানে। সমস্ত শহরতলী কালো কুসুমের
মতো ছাতায় ছাতায় ঢেকে গেছে। যে কোনো সহজ কুর্ণিশেরই
তুমিই তো সেরা সাম্রাজ্ঞী। সবাই আড়াল থেকে দেখতে চেয়েছি
কি প্রতাপ জেগে আছে তোমার উন্মোচনের কাছে,
বস্তুত কোথায় কোথায় তুমি ব্যবহার করো আবরণ।
অথচ ভিজছো কত সাবলীল...
এ বৃষ্টি পাঠিয়ে দিচ্ছো সকল নগ্ন বাথটবে,
শাওয়ারে শাওয়ারে
আর ভিজছে স্পর্শকামী শাওণের রীতি।
দূর থেকে
১।।
পায়ের বন্দরে বিশাল জাহাজ এসেছে
জলে ধোয় জীবিকা নগরী
ঝুম ঝুম শুনি
২।।
কোথাও যাবো না আর এতদিন পর
বেছে বেছে এখানে আজন্ম রয়েছি
শাঁখ শেষে সাঁজোয়া
বিম্বিসারে ফিরে যায়
৩।।
দূর থেকে নাদ- আরো দূর হই, আরো আগোচর
ওখানে চেঁচিয়ে যায় কালের রমণী... শেষ
দুহাত প্রশস্ত করে কেউ যেতে দেয়
অন্য পুতুল
৪।।
দূর থেকে অন্য ছবি, অজস্র কাগজ পুড়েছে পথ-পাতে
লহমায় অর্থ গড়ে ওঠে
দৃশ্যপ্রেম
১/এ, সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট
হুক
জানলা দিয়ে রাস্তার দুরন্ত দৃশ্যগুলো-
ঝুপ-ঝুপ- লাফিয়ে
ম্যাওওওও ডাকে
ঘর থই থই আহ্লাদী ছায়া, দুধ...
ও ভালোবাসা মেদুর বন্ধনীর হুক ছিঁড়ে
কখন বেরিয়ে পড়েছে
ষষ্টি
আহা চারিদিকে হুশ হাশ- ট্র্যাফিক উধাও
কুয়াশার বাহিরে চুপ করে আছে চাঁদ
শ্যামল- শ্যামল একা
এরপর যে কোন বৃষ্টি-ই সংকেত-
আষাঢ়ে গপ্পো
এই ঘরের ভিতর অদ্ভুত সচলতা
আমি চঞ্চল হয়ে উঠছি
আর আকাট কোনো সচল গন্তব্যের কথা ভাবতে ভাবতে
চুন-সুরকি খসে
অলক্ষ্যে,
ভিতর ভিতর
ভাঙ্গা বাড়ি
বাড়ির ভূত ভয় বাস্তু নেমে পড়েছে পথে...
অবিকল দাঁড়িয়ে থাকা বাড়ির মরদেহের নাম বদলে
উদাস হয়ে থাকে সরণি
সূচক
